এম.শাহীন আল আমীন,
বকশীগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর কাউছারের মানবতার কারণে মৃত্যু হার মেনেছে। হায়াত তাকে বাচিঁয়ে রেখেছে। তার ওছিলায় মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে আনারুল হক নামে এক যুবক।
জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ারচর দক্ষিনপাড়া গ্রামে ইমান আলীর ছেলে আনারুল মন্ডল(২৫) বিষ পাণ করে মাটিতে গড়িয়ে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছঁফট করছিলেন। ঘটনা জানার পরেও পাশেই অনেক লোক দোকানে বসে চা আড্ডা ও খোশ গল্পে মেতে ছিলেন। কিন্তু আনারুল মন্ডলের জীবন রক্ষায় কেউ এগিয়ে যাই নেই। হাসপাতালে পাঠানোরও কেউ কোন ব্যবস্থা করে নেই। গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু আনরুল মন্ডলের জীবন রক্ষায় সবাই ছিলেন আনমনা। পুলিশ অফিসার কাউছার বসে থাকতে পারেননি। তিনি প্রায় ২কিলোমিটার গ্রামীন পথ অতিক্রম করে একটি ভ্যান যোগাড় করেন। তার ঘটনাস্থলে ভ্যান নিয়ে আনরুল মন্ডলের দেহটি ভ্যানে উঠানোর জন্য স্থানীয় লৈাকজনের সহায়তা চান। কিন্তু কোন প্রকার সহায়তা না পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স ও ভ্যান চালককে সাথে নিয়ে আনারুল মন্ডলকে ভ্যানে তুলে নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে আনেন। হাসপাতালের চিকিৎসককে সহায়তা করার জন্যও কোন সহায়তা পাননি। এক পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে তাকে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু কে নিবে তাকে শেরপুর হাসপাতালে ? কোন আত্মীয় স্বজন ও লোকজন নেই। বাধ্য হয়ে এস আই কাউছার আনারুল মন্ডলের এক চাচাতু ভাইয়ের মোবাইল নম্বর যোগাড় তাকে কল করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু চাচাতু ভাই শেরপুর যেতে নারাজ। কারণ তার পকেটে টাকা নেই। এসআই কাউছার মানবিক কারণেই আনারুল মন্ডলের ছাচাতু ভাইয়ের হাতে নিজের বেতনের টাকা তুলে দেন এবং গাড়ী ভাড়া করে শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠান। শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার পর আনারুল জীবনে বেচেঁ যায়। বর্তমানে সে সুস্থ্য। আনারুল মন্ডলের ঘটনা সার্বিক্ষনিক পর্যবেক্ষনে ছিলেন বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শাকের আহমেদ।
এব্যাপারে বকশীগঞ্জ থানার এসআই কাউছার জানান, অফিসার ইনচার্জের নির্দেশ, দায়িত্ব ও মানবতার টানেই কাজটি করা হয়েছে। তার পরিবার তাকে জীবিত পেয়েছে । আনারুল মন্ডল বেচেঁ আছে এটাই বড় পাওয়া। সবাই দায়িত্বশীল হলে প্রতিনিয়ত ভালো কাজ করার সুযোগ আসবে।